হোম ক্রিকেট সিদ্ধান্তটি কার ছিল-মুশফিক নাকি সাদমানের?

সিদ্ধান্তটি কার ছিল-মুশফিক নাকি সাদমানের?

by salman

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনশেষে ৫ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ, স্কোরবোর্ডে রান উঠেছে ২৪২। দিনের শেষ ঘণ্টায় ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৪৯ রান যোগ করে বিপদ ঘটতে দেননি সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস। এছাড়া যে পাঁচ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন, সেখানে বোলারদের কৃতিত্বের চেয়ে নিজেদের দায়টাও কম ছিল না।

দিনের শুরুতে তামিম ইকবালের বোল্ড হওয়া ডেলিভারিটি ব্যতীত বাকি ৪ উইকেটেই ছিল ব্যাটসম্যানদের দৃষ্টিকটু সিদ্ধান্তের দায়। সাদমান ইসলামের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন ২৫ রান করা নাজমুল হোসেন শান্ত, অধিনায়ক মুমিনুল হক ২৬ রান করে থামেন পরিস্থিতির তোয়াক্কা না করে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে।

অধিনায়কের উইকেট হারানোর পরেও দ্বিতীয় সেশনটি হতে পারতো বাংলাদেশের। কিন্তু সেশন শেষ হওয়ার মিনিট পাঁচেক আগে সুইপ শট খেলতে গিয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে ধরা পড়েন সাদমান। প্রথমত ফুল লেন্থ ডেলিভারিতে তার সুইপ খেলার সিদ্ধান্তটি ছিল ভুল, দ্বিতীয়ত রিভিউ না নিয়েই সাজঘরে ফিরে যান তিনি।

অথচ টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, জোমেল ওয়ারিকানের সেই ডেলিভারিটি স্ট্যাম্পে পিচ করলেও টার্ন করে বেরিয়ে যেত লেগস্ট্যাম্পের অন্তত ইঞ্চি দূর দিয়ে। অর্থাৎ রিভিউটি নিলে বেঁচে যেতেন সাদমান এবং বাংলাদেশও বিরতিতে যেতে পারত শক্ত অবস্থানে থেকে। তা হয়নি! দীর্ঘ ১৪ মাস পর খেলতে নেমে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি করা সাদমানকে ফিরতে হয়ে ব্যক্তিগত ৫৯ রানে।

সাদমানের রিভিউ না নেয়ার সিদ্ধান্তটিই ছিল ম্যাচের প্রথম দিনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। অন্য প্রান্তে মুশফিকুর রহীমের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার থাকতেও, দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা সাদমান রিভিউ কেন নিলেন না? তা নিয়েই চলতে থাকে নানান আলোচনা। দিন শেষে জানা গেল, নিজের সিদ্ধান্তেই রিভিউ নেননি সাদমান।

সাধারণত লেগ বিফোরের রিভিউ নেয়ার ক্ষেত্রে নন স্ট্রাইক ব্যাটসম্যানই সবচেয়ে বড় ভূমিকা। কিন্তু এ আউটের বেলায় নন স্ট্রাইকে থাকা মুশফিক সিদ্ধান্তের ভার ছেড়ে দেন ব্যাটসম্যান সাদমানের ওপর। আর নিজের বিবেচনায় আউট মনে করে রিভিউ নেননি সাদমান। যার ফলে হারাতে হয় উইকেট।

দিনের খেলা শেষে নিজের উইকেটের ব্যাপারে সাদমান বলেন, ‘রিভিউ নেয়া তো অবশ্যই উচিত ছিল। কিন্তু আমি যখন ম্যাচে ব্যাটিং করি, আমার কাছে মনে হয়েছে যে বলটি ইন লাইন ছিল, উইকেট হিট করবে। এজন্যই আমি রিভিউটা নেইনি। (ড্রেসিংরুমে সবাই) হতাশ তো হয়েছেই। কিন্তু এটা খেলারই অংশ। তাই মেনে নিতে হবে।’

রিভিউ নেয়া, না নেয়ার সিদ্ধান্তে নন স্ট্রাইকে থাকা মুশফিকের ভূমিকার ব্যাপারে সাদমান বলেন, ‘মুশফিক ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন কী হয়েছে? আমি মুশফিক ভাইকে বলেছি যে, আমার মনে হয়েছেন ইন লাইন, উইকেট হিট করবে। তাই রিভিউ নেয়া হয়নি।’

নিজের ভুলে রিভিউ না নিয়ে সাজঘরে ফিরতে হলেও, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন সাদমানই। প্রথাগত টেস্টের মেজাজে খেলে ১২৮ বলে পূরণ করেন নিজের দ্বিতীয় ফিফটি। পুরো ইনিংসে ক্যারিবীয় বোলাররা তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিংয়েই উইকেটে ২৩৫ মিনিট সময় কাটান সাদমান।

নিজের ব্যাটিংয়ের ব্যাপারে তার মূল্যায়ন, ‘অনেকদিন পর ফেরা হয়েছে, আশা করি টিম যে রকম আশা করেছিল আমার কাছ থেকে, আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। আরও বড় (ইনিংস) খেলতে পারলে ভালো হতো। আমি আমার সেরাটা চেষ্টা করেছি, খুব ভালো লাগছে।’

 

প্রাসঙ্গিক

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept